1. mtishopon@gmail.com : sangbaddinraat.com :
  2. minhajul@sangbaddinraat.com : Minhajul Bari : Minhajul Bari
  3. news@sangbaddinraat.com : Sangbad Dinraat : SD News
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
**** বহুল প্রচারিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ দিনরাত সারাদেশে জেলা, থানা/উপজেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে ***  

কোটি মুসলমানের মনে প্রকৃত আনন্দ নেই ঈদে!

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ, লেখক ও সাংবাদিক
  • আপডেট টাইম শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২০
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে

মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। ঈদ শব্দটা উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষজন মেতে উঠেন আনন্দ উদযাপনে। কারণ চড়াই-উতরাই পেরোনো জীবনে আমরা কতটুকুই বা সুযোগ পাই আনন্দে মেতে ওঠার। এই ম্লানতার কারণগুলো সবারই জানা। দুটি কারণে এবারের ঈদ নিয়ে খুব বেশি আনন্দিত হতে পারছে না দেশের মানুষ। কয়েক কোটি মুসলমানের মনে ঈদের প্রকৃত আনন্দ নেই। প্রথমত করোনা নামক অদৃশ্য ভাইরাসের কারণে সেই আনন্দ অনেকটা সাদামাটা। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের চিত্র প্রায় একই রকম।

এমন পরিস্থিতির মূল কারণ প্রতিদিনই সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। কঠিন এমন অবস্থা থেকে বিশ্ববাসী কবে নাগাদ মুক্তি পাবেন তা কেউ বলতে পারছে না। কারণ এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কোনো সফল প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, এটাই পথ। তাই সেই পথেই হাঁটছে পুরো বিশ্ব।

বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। এমন বৃদ্ধির খবরে সবার মধ্যে কাজ করছে ভয়। সেই করোনাময় লকডাউনের মধ্যেই দেশের মানুষ উদযাপন করেন ঈদুল ফিতর। সেখানেও আনন্দের মাত্রা ছিল না। যা ছিল তাও সীমিত। মানুষ ঘরে বসে থেকে করেছে ঈদ উদযাপন।

এখন লকডাউনের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সবার মনে রয়েছে ভয় আর উৎকণ্ঠা। কেননা, এখনও প্রতিদিন দেশে করোনা শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও সময়ের স্রোতে চলে এসেছে ঈদুল আজহা। এমন ভয় আর উৎকণ্ঠার মধ্যেই ঈদুল আজহা উদযাপন করলেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। প্রতিবারের মতো সবার মনে সেই অপার আনন্দ ছিল না এবারও।

করোনার পর আরও একটি দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে বন্যা। দেশের অনেক জেলা এখন বন্যা কবলিত। টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাড়ি-ঘর ডুবে যাওয়ায় অনেকে আশ্রয়কেন্দ্র বা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। প্রায় প্রতি বছরই আমাদের দেশে বন্যা এখন নিয়মিত ঘটনা। তবে এ বছর অন্য বছরগুলোর চেয়ে বন্যার মাত্রা কিছুটা বেশি। তাই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কম নয়। বিশেষ করে কৃষি ক্ষেত্রে। আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আর এ কারণে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকরাই। এবারের বন্যায় দেশের প্রায় অনেক জেলায় আউশ, আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে অনেক। বন্যার পানির সঙ্গে কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে নদীভাঙন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় নদীভাঙনের শিকার হয়ে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়েছে অনেক পরিবার। তাই তাদের কাছে ঈদের আনন্দ নেই। কীভাবে বেঁচে থাকবেন সেই চিন্তা সবার মধ্যে।

আমাদের দেশে কিছু প্রান্তিক কৃষক রয়েছেন যারা ঈদুল আজহাকে টার্গেট করে কোরবানির পশু লালন-পালন করেন। কিছু লাভের আশায় এ কাজ করলেও এবার অনেককে হতাশ হতে হচ্ছে। কারণ কোরবানির পশুর ন্যায্যমূল্য পাননি না তারা। করোনার জন্য মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই পশু কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকে আগ্রহী নয়। হাটে ক্রেতা কম থাকায় পশুর ন্যায্যমূল্যও পাননি খামারিরা। তাই পশু লালন-পালন করে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা হতাশ। তাদের মধ্যেও নেই ঈদের আনন্দ। এবারের ঈদুল আজহায় আর্থিক সঙ্কটের কারণে অনেকে পশু কোরবানি দিতে পারেন নাই। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। আগে অনেকে কয়েক ভাগে দিলেও এবার সেটাও পারছেন না। ভালো নেই নিম্নআয়ের মানুষও। অন্যের সাহায্যের জন্য তাকিয়ে আছেন তারা। তবে করোনায় পরিস্থিতির মধ্যেও যেসব বিত্তশালীরা পশু কোরবানি দেবেন তারা যেন আশপাশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির কথা মাথায় রাখেন। মাংসের একটি অংশ তাদের দিলে কিছুটা হলেও আনন্দ ফুটে উঠবে এসব নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের পরিবারে।

একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে হবে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তবেই হয়তো কঠিন এই পরিস্থিতিতে ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। আর একটি কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে, করোনার এমন সময়ে ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে যেন সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে ভুল না হয়। করোনা পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় এখনও সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।

তাই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।নিজে নিরাপদ থাকব ও অন্যকে নিরাপদে রাখব। সবার প্রতি রইল ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

লিখেছেনঃ এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ, লেখক ও সাংবাদিক

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার